18671207_435428483501392_4804136335404667926_n

চট্টগ্রামে রাউজান কদলপুর দি বুড্ডিস্ট কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি: এর ব্যবস্থাপনায় গত ২৬ মে ২০১৭ তারিখে দিনব্যাপী টেকসই উন্নয়ন ২০৩০ সাল রূপান্তরিত পৃথিবী গঠনে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য সমূহ(Sustaimable development goals)এসডিজিএস বাস্তবায়নে যুবসম্পদ উন্নয়ন কর্মশালা’’ অনুষ্ঠিত হয়। উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে ক্রেডিট ইউনিয়নের ভাইস চেয়ারম্যান বাবু রণধীর বড়ুয়ার সভাপত্বিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জনাব মুজিব-উর-রহমান-খান ,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাল্ব’র চট্টগ্রাম জেলার ব্যবস্থাপক বাবু প্রণব কান্তি বিশ্বাস। উদ্ধোধক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিসিসিইউএল এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী,বিটিসি কমপ্লেক্স পরিচালক, কদলপুর সুধর্মানন্দ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ শ্রীমৎ শাসনরক্ষিত থের মহোদয়। কর্মশালায় মর্ডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দি গৃহায়ণ লি: এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং বিসিসিইউএল এর উপদেষ্টা, সফল উদ্যোক্তা প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়া, রিসোর্স পার্সন হিসেবে ছিলেন বিসিসিইউএল’র উপদেষ্টা, স্যার আশুতোষ কলেজের প্রভাষক পরিচয় বড়ুয়া, কালব’র ম্যানেজার এন্ড ট্রেনিং কনসালটেন্ট মি. উইন্সটন টিটু কুঁইয়া, বিসিসিইউএলএর প্রকল্প কর্মকর্তা শ্রীমৎ বিপসসী ভিক্ষু।
কর্মশালায় বিভিন্ন উপজেলা হতে ৬৪ জন ১৮ হতে ৩৫ বছরের শিক্ষিত যুবক-যুবতী এবং বিসিসিইউএল’র কর্মকর্তাসহ ৮০জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
উদ্ধোধক শ্রীমৎ শাসনরক্ষিত ভিক্ষু তাঁর উদ্ধোধনী ভাষণে বলেন, আপনারা যারা এসেছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশ ছাত্র,যুবক, কেউ শিক্ষক, চাকুরীজীবি, উদ্যোক্তা । আমরা সবাই মিলে জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত টেকসই উন্নয়ণ(SDGS)বাস্তবায়ণে এগিয়ে না আসলে পরিবার, সমাজ, সম্প্রদায়, জাতি এবং দেশ সর্বপরি আমরা নিজেরাই পিছিয়ে থাকবো।যার যার অবস্থান হতে জাতিসংঘের ঘোষিত ১৭টি লক্ষ্য পূরণে একযোগে কাজ করতে হবে। দেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৪১ সালে উচ্চ আয়ের দেশে উন্নীত হবে। দেশে এই ক্রমোন্নতির মধ্য আমাদের চলমান ধারা পরিবর্তিত হতে হলে টেকসই উন্নয়ন(SDGS)বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।দেশকে টেকশই উন্নয়ন এবং এর লক্ষ্য সমূহ পুরণে যুবকদের দায়িত্বশীল হতে হবে।তিনি আরও বলেন, গত ২০ বছর ধরে আমার লালিত স্বপ্ন বিসিসিইউএল আমি ভবিষ্যত প্রজম্মের হাতে তুলে দিতে চায়। কর্মশালায় প্রত্যেকে স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহণ করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি উপস্থিত সকলকে অভিনন্দন ও মৈত্রীময় শুভেচ্ছা জানান। স্বাগত ভাষনে বিসিসিইউএল এর সেক্রেটারী শ্রীমৎ প্রজ্ঞাশ্রী ভিক্ষু অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্য বলেন, আপনারা এই কর্মশালায় যা ধারণ করবেন সেগুলো হৃদয়ে লালনের মাধ্যমে সমাজে কাজে লাগিয়ে সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে।

কর্মশালায় আলোচ্য বিষয় ছিলঃ
——————————-
১. যুব বিষয়ক ধারণা ও ক্যারীয়ার বিল্ডাপ,
২. এসডিজি উন্নয়ন সম্পর্কে ধারনা ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে: শেখ হাসিনার পদক্ষেপ ও এসডিজি বাস্তবায়ণে রোড ম্যাপ,
৩. এসডিজি ব সমাবাস্তবায়ণে যুজের ভূমিকা ও সম্পৃক্তকরণ প্রক্রিয়া.
৪. এসডিজি বাস্তবায়ণে ক্রেডিট ইউনিয়নের ভূমিকা,
৫. বাংলাদেশ সরকারের যুবনীতি ও বিসিসিইউএল’র ইয়ুথ বী সম্পর্কে ধারণা।

সকালবেলার পর্বেঃ
যুব বিষয়ক ধারণা ও ক্যারীয়ার বিল্ডাপ এর উপর রিসোর্স পার্সন হিসেবে শ্রীমৎ বিপস্সী ভিক্ষু দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি প্রসঙ্গক্রমে বলেন, আমাদের উন্নয়নে মূল বাধা হলো অজুহাত নামক একটি রোগ।নিজের ক্যারিয়ার বীল্ডাপ করতে কোন অজুহাতকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।তিনি বলেন সবাইকে টার্গেট করতে হবে কীভাবে কোটিপতি বা বিলিয়নপতি হওয়া যায়।যুবকদের যে কোন কাজে ঝুঁকি নিতে হবে। সফলতা আপনার দোয়ারে নারা দিবে। তিনি বলেন,আইডিয়া থাকলে এক টাকা দিয়েও অনেক সচেতনাতামূলক কাজ এবং গ্যাস অপচয়রোধ করার জন্য আপনি ভূমিকা রাখতে পারেন। একটাকার দিয়াশলাই কিনে গ্যাস ব্যবহৃত বাড়ি বাড়ি গিয়ে একটি কাঠি দিয়ে গ্যাসের অপচয় রোধ করার পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে দেশের সম্পদ Sustain করার ভূমিকা রাখতে পারেন। তাছাড়া তিনি যুবকদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
রিসোর্স পার্সন প্রভাষক পরিচয় বড়ুয়া এসডিজি উন্নয়ন সম্পর্কে ধারনা ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে: শেখ হাসিনার পদক্ষেপ ও এসডিজি বাস্তবায়ণে রোড ম্যাপ বিষয়ে তুলে ধরেন।তিনি এসডিজি কী এবং এর ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা যেমন দারিদ্র বিমোচন, ক্ষুধামুক্ত, সু-স্বাস্থ্য মানসম্মত শিক্ষা, নারী অবস্থান বিশুদ্ধ পানি ও পয়:নিষ্কাষণ ব্যয়সাধ্য ও টেকসই জ্বালানী, শিল্প উদ্ধাবন ও উন্নত অবকাঠামো, বৈষম্য হ্রাসকরণ টেকসই নগরায়ণ ও সম্পদে দায়িত্বশীল ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা করেন।
রির্সোস পার্সন বিপসসী ভিক্ষু এসডিজি বাস্তবায়ণে যুবসমাজের ভূমিকা ও সম্পৃক্তকরণ প্রক্রিয়ার উপর আলোচনায় অংশগ্রহন করেন।
দেশ থেকে সবধরণের দারিদ্রতা দুরীকরণ,বিভিন্ন উৎস থেকে পর্যাপ্ত সম্পদ আহরণ,গুণগত শিক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবন নিশ্চিতকরণ,নারী-পুরুষের সমতা,সুপেয়পানি ও স্যানিটেশন,কর্মসংস্থান নিশ্চিতকণসহ এসডিজিএস’র ১৭টি লক্ষ্য পূরণে যুবসমাজকে অধিকতর অংশগ্রহন এবং ভূমিকা পালন করতে হবে।তিনি বলেন, প্রত্যেকে একটি মোমবাতির সাথে আরেকটি মোমবাতি জ্বালান; সবাইকে সূর্য়ের মতো জ্বলে উঠতে হবে ।
বিকাল বেলার পর্বে কালব’র ম্যানেজার ট্রেনিং এন্ড কনসালটেন্ট মি. উইন্সটন টিটু কুঁইয়া এসডিজি বাস্তবায়নে ক্রেডিট ইউনিয়নের ভূমিকা কি হতে পারে বিশদভাবে আলোচনা করেন।তিনি বলেন,আমরা জানিনা ২০৩০ সাল নাগাত আমরা এর শতকরা কতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারেবো। এই প্রসঙ্গে একজন খ্রিষ্টান ফাদারে উদ্ধিৃতি দিয়ে বলেন,(Think globally, act locally). তিনি বলেন, ক্রেডিট ইউনিয়নে একটি স্থানীয় বিশ্বস্থ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তাই এর মাধ্যমে(SDG)এর ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা তথা দারিদ্র বিমোচন, সেনিটেশন মানসম্মত শিক্ষা প্রভৃতি অর্জনে স্থানীয়ভাবে সহযোগী ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে আয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে সকল ব্যয়ের মাপকাঠি নির্ধারণ করতে হবে, কেননা আগে ক্রেডিট ইউনিয়ন Sustainable হলে, তবে সম্ভব Sustainable Development Goals নিয়ে কাজ করা।
রিসোর্স পার্সন শ্রীমৎ বিপসসী ভিক্ষু বাংলাদেশ সরকারের যুবনীতি ও বিসিসিইউএল’র একটি নতুন প্রোডাক্ট বুড্ডিস্ট ‘‘ইয়ূথ বী’’ সম্পর্কে যুবকদের ধারণা দেন। তিনি কর্মশালায় উপস্থিত সকলকে খরচ কমিয়ে সঞ্চয়ী হওয়ার জন্য নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন।তিনি বলেন কর্মশালা হতে ফিরে গিয়ে যার যার অবস্থান হতে সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কাজে অংশ গ্রহনে উদ্বুদ্ধ করেন।
মর্ডারেটর প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়া রিসোর্স পার্সনদের উপস্থাপিত বিয়য়ের উপর সমন্বিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন, তিনি রিসোর্স পার্সনদের আলোচনার প্রেক্ষাপট ধরে বলেন, বুড্ডিস্ট ক্রেডিট ইউনিয়ন আপনাদের ডেকেছে হাতে হাত রেখে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একযোগে কাজ করার জন্য। আমরা আমাদের নিজ জন্মভূমিতে নানা অজুহাত ঝেড়ে ফেলে যতটুকু সফল হতে পারবো, বিদেশে পাড়ি যমিয়ে সেখানে ততটা সফল হতে পারবো না। জীবনে সফলতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি প্রত্যেককে SWOD analyse করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ক্রেডিট ইউনিয়ন যেহেতু সমাজ ভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সেহেতু গ্রাম ও শহরে মাঝে দূরত্ব ঘুচিয়ে সমবায় বিপনী চালু করতে হবে। এতে বেকারত্ব অনেকাংশে দূর হবে।তিনি উপস্থিত সকলকে উদ্যোক্তা হতে পরামর্শ দেন আর চাকুরীর পিছনে দৌঁড়াতে হবেনা।আপনারাই শত শত যুবককে চাকুরী দিতে পারবেন।
দুইশত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কদলপুর সুধর্মানন্দ বিহার তথা বিটিসি কমপ্লেক্স এর আওতাধীন ২২টি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কর্মশালা অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেন বিটিসি কমপ্লেক্সের একনিষ্ঠ সেবক এপীক্সিয়ান মৃনাল কান্তি বড়ুয়া।
দিনব্যাপী কর্মশালা শেষে প্রধান অতিথি রাউজান উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জনাব মুজিবুর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশ সরকার এসডিজি এর ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বিসিসিইউএল বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।এসডিজি পূরণে দেশের যুবদেরকেই ভূমিকা রাখতে হবে।তিনি সবাইকে সু-শিক্ষা লাভের পরামর্শ দেন। কর্মশালায় বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, আপনারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন, যদি স্থানীয়ভাবে সহযোগীতা লাভে ব্যর্থ হন তখন আমার সাথে যোগাযোগ করবেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী নিয়ে ফটোসেশন ও সনদ বিতরণ করেন ‘‘বিসিসিইউএল এর ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং অতিথিবৃন্দ। সনদ বিতরণ শেষে বিসিসিইউএলএর চেয়ারম্যান ডা: দিবাকর বড়ুয়া উপস্থিত সকলকে স্বত:স্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে কর্মশালার সফল সমাপ্তি ঘোষনা করেন।